সাগর আহমেদ জজ,নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা পূর্বধলা ২১ আগস্ট:বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেছেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগবালাই মোকাবিলায় কৃষকের সক্ষমতা বাড়াতে অঞ্চলভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, ইতোমধ্যে নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬টি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধানের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার শিজকান্দি গ্রামে ব্রি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের আয়োজনে আউশ-২০২৫ মৌসুমের ব্রি ধান ৯৮ ও ব্রি হাইব্রিড ধান ৭-এর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের আসন্ন আমন মৌসুমে উন্নত জাতের ধান চাষের পরামর্শ দেন এবং ব্রি’র বিজ্ঞানীদের কৃষকের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. খালিদ হাসান তারেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার ড. চন্দন কুমার মহাপাত্র, এলএসটিডি প্রকল্পের উপ-পরিচালক ড. আফসানা আনছারী এবং পূর্বধলা উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল নূর।
অনুষ্ঠান শেষে ‘কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্লটে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের বাদেবিন্নায় আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন ব্রি মহাপরিচালক।
স্থানীয় কৃষক খান সাজ্জাতুন নূর নিলয় জানান, এ বছর ২০ একর জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উফশী আউশ ধান চাষ করে রোগ ও পাখির আক্রমণ কম হয়েছে এবং ফলন আশাতীত হয়েছে। তিনি আগামী মৌসুমে আরও বিস্তৃত আকারে চাষাবাদের পরিকল্পনার কথা জানান।
ব্রি নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান জানান, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে ২০ একর প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
বিকেলে ব্রি মহাপরিচালক স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং গবেষণার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, নেত্রকোণা জেলার পাহাড়, হাওর ও সমতলভূমি মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় কৃষি অঞ্চল হিসেবে ব্রি’র আঞ্চলিক কার্যালয়টি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি নেত্রকোণার ১০টি এবং শেরপুরের ৪টি উপজেলায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম হোসেন। ফোন নম্বর: 01735936753। Office: বাড়ি #20;রোড #6;ব্লক #ই; মিরপুর#১২; পল্লবী, ঢাকা।