সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ
মাধবপুর উপজেলার দেওগাঁও গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ আজও মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর স্মৃতি বয়ে চলছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের ধারণা, প্রায় ৭০০ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি একসময় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল।
প্রাচীন এই ধর্মীয় স্থাপনাটির দেয়াল ও স্তম্ভে রয়েছে পাথর খোদাই করা ফারসি ভাষার শিলালিপি, যা মসজিদের বয়স ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাক্ষ্য বহন করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং অবহেলায় মসজিদটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবু এর স্থাপত্যশৈলী আজও অতীতের গৌরবের স্মৃতি জাগিয়ে রাখে।
দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মানত ও দোয়া নিয়ে এই মসজিদে আসেন। ধর্মীয় গুরুত্ব ছাড়াও এখন এটি স্থানীয় পর্যটকদের কাছেও এক আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে কিছু সংস্কার করলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা বলেন, “এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। যদি দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অমূল্য এক ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।”
স্থানীয় সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি মসজিদটি সংরক্ষণের দাবিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। তাঁর উদ্যোগে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বর্তমানে মসজিদটি সংস্কারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
এছাড়া স্থানীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি রোকনুদ্দিন লস্কর বিষয়টি নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গর্ব। এটিকে সংরক্ষণ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
কয়েক বছর আগে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মসজিদটি পরিদর্শন করলেও, তৎপরবর্তী সময়ে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
তাদের মতে, দ্রুত যদি মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূর্ণ সংরক্ষণাধীন করা যায়, তবে এটি হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিকশিত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম হোসেন। ফোন নম্বর: 01735936753। Office: বাড়ি #20;রোড #6;ব্লক #ই; মিরপুর#১২; পল্লবী, ঢাকা।