এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) :
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বীরোচিত ভূমিকার জন্য বীর শহিদ পরিবার ও বীর যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান এবং ৪ জুলাই কাপাসিয়াকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে ‘ফকির মজনু শাহ্ সেতু’র পশ্চিম প্রান্তে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্মাননা দেয়া হয়।
গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৮ জন জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট এবং জুলাই শহিদ জাকির হোসেন ও জুলাই শহিদ এম এ হোসেনের পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আফজাল হোসাইন আনুষ্ঠানিকতার সার্বিক পরিচালনা করেন। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জুলাই যোদ্ধা আজগর হোসেন খান, জুলাই যোদ্ধা প্রভাষক শামীমা চৌধুরী সিমু প্রমুখ। এছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ‘ফকির মজনু শাহ সেতুর’ পশ্চিম প্রান্তে যেখানে ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করা হয়েছিল সেই স্থানকে ‘জুলাই চত্বর’ নাম ঘোষণা করে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান অতিথি গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র সমাজের একমাত্র যৌক্তিক দাবি ছিলো বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা, তারা চেয়েছিলেন মেধার ভিত্তিতে যেন মূল্যায়ন হয়। ফ্যাসিবাদী সরকার সেদিন তা মেনে না নিয়ে ছাত্র জনতার উপর গুলি বর্ষণ করে। দেশব্যাপী নির্বিচারে ছাত্র জনতার উপর নির্মম নির্যাতনের ফলে তাদের সেদিনের দাবি সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়। সেদিনের সেই আন্দোলন কারো একক সম্পত্তি নয়। পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগও দেশটাকে একক বানিয়েছিল। ক্ষমতার জন্য দেশটাকে মৃত্যুপুরীতে পরিনত করেছিল। তাই কেউ যেন এই আন্দোলনকে একক ভাবে দাবি না করে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে ১৭ বছরের এক নায়কত্বের অবসান হয়েছে। জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদার লড়াই। দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই তা সফল হয়েছে। ফ্যাসিবাদীদের সাথে কোনো আপোষ করা হবে না। দলের কেউ যদি ফ্যাসিস্টদের পুনর্বহালের চেষ্টা করে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ঐক্যবদ্ধ কাপাসিয়াবাসীকে সাথে নিয়ে সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকা পালন করা হবে। জুলাই আন্দোলনের ফসল হলো আজকের এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ‘জুলাই চত্বর’ ঘোষণা দেয়ার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি আবেদন দেয়া হবে বলে জানানো হয়। তিনি আরো বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে সাংবাদিকরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছে। তবে স্থানীয় ভাবে কাপাসিয়ায় যারা সাংবাদিক পরিচয়ে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে, তাদের ব্যাপারে সাংবাদিক সংগঠন গুলোকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক নামধারী ফ্যাসিস্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তাদেরকে তুলে দেয়ার আহ্বান জানান। পরে বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।