ঘোড়াঘাট(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ
চলতি মৌসুমে ইরি ও বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘোড়াঘাটের কৃষকেরা, ভোর হতেই ঠাণ্ডা পানিতে নেমে বোরো ধানের চারা তুলে সেই চারা জমিতে রোপণ করছেন। ইরি ও বোরো চাষের জন্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে জমি। ভোর রাত থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত বোরো জমি প্রস্তুত করতে কৃষকেরা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছেন।
আগাম আলু উত্তোলনের পর ওই জমিতে রোপণ করছেন ইরি ও বোরো ধানের চারা। গ্রামে গ্রামে এখন ধান লাগানোর উৎসবের আমেজ। ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভাবন করা উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা তৈরি করে এবার কৃষকের হাতে লাগানো ইরি ও বোরো ধান চাষ করা হচ্ছে। ধান চাষে সার্বিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যে-সব কৃষক আমন ধান কাটার পর আলু বা সরিষা চাষ করেননি, তারা আগাম সেসব জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন।
ইরি ও বোরো ধানের মধ্যে কৃষি বিভাগের নতুন উদ্ভাবন করা ভ্যারাইটি হাইব্রিড ও উফসী জাতের ধান এবারে বেশি আবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন ভ্যারাইটি হিরা-১, হিরা-২, সোনার বাংলা, বি-ধান ২৮, ব্রী-২৯, ব্রী-৮১, ব্রী-৭৪, ব্রী-৮৯ ব্রী-৯০ ও ব্রী-১০২ সহ স্থানীয় জাতের কিছু ধান চাষ বেশি হচ্ছে।
এ উপজেলায় এবার ইরি ও বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২শ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় কৃষকেরা শান্তিপূর্ণ ভাবে যথাসময়ে ইরি ও বোরো চারা রোপণ করছেন। এবারে ঘোড়াঘাটে ইরি ও বোরো ধান চাষের যোগ্য মাঠের জমি শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহে সেচ যন্ত্রের আওতায় নিয়ে আসা করা হচেছ।
তবে এবার বোরো ধানের ব্যাপক উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের কৃষি উপকরণ সরবরাহ সহজ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ সহজে সরবরাহ করা হচ্ছে। এবারে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ইরি ও বোরো ধানের চাষ অর্জিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকেরা রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। ধানের চারা বড় হয়ে ফসলে ভরে উঠবে তাদের গোলা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগাম চারা রোপণ করায় ক্ষেতে ফসল ভালো উৎপাদন হয়। আর সারি সারি করে ধানের চারা রোপণ করার ফলে পরিচর্যায় স্বস্তি মেলে। এছাড়া ক্ষেতে রোগ-বালাই কম হওয়ায় অন্যান্য ফসল থেকে শতকরা ২০ ভাগ উৎপাদন বেশি হবে। সার ও বীজের দাম সহনীয় হলে ধান চাষ করে আরও লাভ পাওয়া যেত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান চাষ বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদিত ফসল থেকে গতবারের তুলনায় আরো অধিক ফলন পাওয়া যাবে এমনটি মনে করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।