আশিকুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতা:
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দূসর আওয়ামী লীগ নেতা বশির হাওলাদার প্রশাসনকে ফাঁকি দাপটের সহিত ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। এতে করে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।
তৎকালীন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের সরকারের ১৭ বছরে ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদের ছত্রছায়ায় বশির হাওলাদার ঘের বাণিজ্য, ভুয়া জমি কেঁনা বেঁচা , চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন দূর্ণীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ ও কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলার মামলায় ১নং, ২ নং ও ৩ নং আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকলেও উক্ত মামলার ৮ নং আসামি বশির হাওলাদার অদৃশ্য শক্তির জোরে দাপটের সহিত ঘুরে বেড়াচ্ছে। টঙ্গী মদিনা পাড়া এলাকার নয়াবাড়ির জামাই পরিচয় দিয়ে এখন সে জায়গায় জায়গায় নিজেকে বিএনপি সমর্থক দাবি করছে। তার অপরাধ অহমিকা কোন ভাবেই যেন থামছেই না। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতা হত্যা চেষ্টার একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে পালিয়ে ভারতে যায়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে মোছাঃ আলেয়া বেগম টঙ্গী পশ্চিম থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০, ২১/০৯/২০২৪ ইং টঙ্গী পশ্চিম থানা। এতে আওয়ামী লীগ নেতা গাসিক ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ (৪৫), আওয়ামী লীগ নেতা খবির আহমেদ পিস্তল কবির (৫৫), যুবলীগ নেতা ও গাসিক ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন মোল্লা (৪৫)সহ আওয়ামী লীগের ফরহাদ (২৮), আমির হোসেন (৩২), জিলানী (৩৫), মাইদুল (২৬), বশির হাওলাদার (৪৪), কাইয়ুম (৩০), ইমান আলী (৪৫), সহ আরো ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।
মামলার এজহার থেকে জানা যায়, বাদী আলেয়া বেগমের ছেলে রাজু (৩০) টঙ্গী এলাকায় অটোরিক্সা চালায়। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও সে কাজে বের হয়। গত ২০/০৭/২০২৪ ইং তারিখ বিকাল অনুমানিক ৩ টায় টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়াস্থ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মূল গেইটের দক্ষিণ পাশে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে উপরোক্ত বিবাদী সহ অজ্ঞাতনামা আওয়ামীলীগ তাহার অঙ্গ সংগঠনের দুষ্কৃতিকারীরা কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে টঙ্গীপশ্চিম থানাধীন মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী, মার্কেট, দোকানপাটসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনা ইত্যাদি ক্ষয়ক্ষতি, চুরি ও লুটপাট করার উদ্দেশ্যে লোহার রড, পিস্তল, লোহার পাইপ, কাঠ ও বাঁশের লাঠি ধারালো অস্ত্র,
ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারী, বেসরকারী স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ ভাংচুর ও লুটপাট করে। উক্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলান সময়ে উক্ত বিবাদীদের মধ্যে হতো গুলি করলে উক্ত গুলি আমার ছেলের পায়ের হাটুতে লেগে পায়ের অন্যদিকে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার সহায়তায় আমার ছেলেকে NICVD মেডিকেল ঢাকায় নিয়ে যায়। উক্ত NICVD মেডিকেল ঢাকায় ইং ২১/০৭/২০২৪ তারিখ হইতে ২৪/০৭/২০২৪ তারিখ পর্যন্ত আমার ছেলেকে চিকিৎসা করাই। কিন্তু আমার ছেলের পায়ে পঁচন ধরলে ইং ২৫/০৭/২০২৪ তারিখ হইতে ০৭/০৮/২০২৪ পর্যন্ত NITOR মেডিকেল ঢাকায় চিকিৎস করানের হয়। আমার ছেলে ডান পায়ে পঁচন ধরায় ইং ২৭/০৭/২০২৪ তারিখ ডান পা কেটে ফেলা হয়।
মামলার বাদীনির প্রশ্ন, হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি, স্বৈরাচারী সরকারের দূসর, আওয়ামী লীগ নেতা বশির হাওলাদার প্রশাসনের সামনে কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আমার ছেলেকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিদের প্রশাসন কেন আটক করেছেন না, তাদের বিচার কি হবে না।
টঙ্গী পশ্চিম থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনোহর আলী জানান, এ বিষয়ে আমার জানা ছিলনা । আমি তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
এদিকে তাদেরকে অচিরেই গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন জনগণ।