নিজাম উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আবারও দেখালো তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলের প্রতি দায়বদ্ধতা। আজ শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন ঘিরে শহরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর রাজনৈতিক পরিবেশ। জেলা শহরের বত্রিশ এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিশাল মিছিল, গগনবিদারী স্লোগান আর নেতাকর্মীদের ঢল প্রমাণ করে, কিশোরগঞ্জ বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও আন্দোলন-প্রস্তুত।
এডভোকেট মুবিনের নেতৃত্বে নজিরবিহীন মিছিল
এদিন বেলা ১২টার দিকে বত্রিশ মোড় থেকে বিশাল মিছিলটির সূচনা হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আবু আহমেদ ফয়জুল করিম মুবিন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় অতিক্রম করে পুরাতন স্টেডিয়ামে গিয়ে সম্মেলনের মূলমঞ্চে একীভূত হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ বিশাল মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল, ওলামাদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের সর্বত্র ‘তারেক রহমান তোমায় সালাম’, ‘মির্জা ফখরুল এক পথের দিশারী’, ‘মুবিন ভাই তৃণমূলের ভরসা’—এমন স্লোগানে মুখর ছিল কিশোরগঞ্জ।
তৃণমূলের আশা: নেতৃত্বে এডভোকেট মুবিন
সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্বে তারা এমন কাউকে দেখতে চান যিনি মাটি ও মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে পারেন, দুঃসময়ে পাশে থাকেন, আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থাকেন—সেই মানুষটি হচ্ছেন এডভোকেট মুবিন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকেই বলেন, “মুবিন ভাই শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের পরিবারের একজন। দুঃখে-সুখে যেভাবে পাশে ছিলেন, তেমন নেতা আমাদের প্রয়োজন।” কেউ কেউ আরও বলেন, “তিনি শুধু দল চালান না, হৃদয় দিয়ে মানুষ গড়েন। তৃণমূল তাঁকে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায়।”
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা ও প্রার্থিতা
বিএনপির কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মেলনে এবার ভোটার সংখ্যা ছিল মোট ২০২০ জন। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন প্রার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য লড়ছেন ৪ জন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলনস্থল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বহু নেতা এতে উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা কিশোরগঞ্জ বিএনপিকে একটি ‘মডেল জেলা’ হিসেবে দেখতে চান।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট: বিএনপি মাঠে আছে, শক্ত অবস্থানে আছে
এই সম্মেলন শুধু একটি সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ছিল সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রাক-মঞ্চায়নও। যেভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নিয়েছেন, স্লোগানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, মাঠে সক্রিয় ছিলেন—তা স্পষ্ট করে দেয়, বিএনপি এখনও মাঠের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন উদ্যমে প্রস্তুত।
উপসংহার: তৃণমূল বলছে – “এই নেতৃত্ব আমাদের, এই পথ আমাদের”
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির এ সম্মেলন ঘিরে যে রাজনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা দলটির ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দলটি তৃণমূলে আরও সুসংগঠিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
এডভোকেট মুবিনের মতো নেতা যেন তৃণমূলের প্রতিনিধি হয়ে উঠে আসেন, এমনটাই আজকের মিছিল আর সম্মেলনের প্রধান বার্তা হয়ে রইল।