এ এইচ সবুজ, গাজীপুর:
চারিদিকে সবুজ ধানক্ষেত। ফাল্গুনের বাতাসে দোল দিয়ে যাচ্ছে কচি কিশলয়। আঁকাবাকা ধানক্ষেতের আইল মারিয়ে চোখ মেলেলেই দেখা যায় হাঁসছে একটি পলাশ গাছ। এ যেনো ক্যানভাসে আকাঁ কোন ছবি৷ সবুজের মাঝে এমন পলাশ ফুলের পরশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত ছুটে আসছে বাংলার প্রকৃতি প্রেমিরা।
গাজীপুরে কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের ছেলদিয়া গ্রাম। কাঁচাপাকা রাস্তা, বনবাদাড় আর পাখির কলতানে মুখরিত গ্রামটি৷ বানার নদীর কোল ঘেঁষে মনোমুগ্ধকর সবুজ ধান ক্ষেতের অপূর্ব দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এযেন আবহমান গ্রাম বাংলার উদ্ভাসিত এক রূপ।
বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতের এমন অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢাকা,গাজীপুর এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসছে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। গাছের এমন সৌন্দর্য দীর্ঘদিনের হলেও বছর দুয়েক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এই গাছটি সর্বমহলে বেশ পরিচিত।
সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করায় পলাশ গাছটির তলা এখন হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ছেলদিয়া এলাকার পলাশ তলায় সিএমভি মিউজিকের ব্যানারে ফ্রেশ অনন্যা নিবেদিত মাশরিকুল আলম পরিচালিত জোভান-নাজনীন নিহা অভিনীত জনপ্রিয় নাটক মেঘের বৃষ্টি ও মুশফিক আর ফারহান- সামিরা খান মাহী অভিনীত জনপ্রিয় নাটক কত যে আপন এর চিত্র ধারণ করা হয়।
সবকিছু মিলিয়ে এই গ্রামের সব বয়সী মানুষের কাছে পলাশ গাছ তলা একটি শান্তির জায়গা৷
গ্রামের মানুষ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় ফালান মিয়া, আতিকুল ও নজরুল ইসলাম এই তিনজনের ধানক্ষেতের মাঝেই বহুবছর আগে এই পলাশ গাছটি লাগানো হয়। মূলত কৃষকেরা কাজ শেষে যেন এই গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে পারেন৷ এজন্য আব্দুর রহমান শাহিন নামে গ্রামের এক প্রবাসী নিজ খরচে গাছটির নিচে ইট সিমেন্ট দিয়ে কৃষকদের বিশ্রামের জন্য মাচা তৈরি করে দিয়েছে।
সম্প্রতি তিনি আগত দর্শনার্থী ও পথচারীদের পিপাসা মেটানোর জন্য নিজ খরচে একটি নলকূপ স্থাপন করেছেন। এখানে রয়েছে নামাজ আদায়েরও ব্যবস্থা।
এখন চলছে মাহে রমজান। তারপরও থেকে নেই দর্শনার্থীদের পদচারণা। শখের বশে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে এখানে ইফতার করছেন।
স্থানীয় যুবক তানভীর আহমেদের তত্ত্বাবধানে গাছ থেকে ফুল,পাতা এবং ডালপালা যাতে কেউ ছিঁড়তে না পারে সেজন্য গাছের চারপাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে বেড়া দেয়া হয়েছে। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনতার বন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিবেশ এবং পলাশ ফুলের গাছ রক্ষায় কয়েকটি সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গাছটিতে ফুল ফুটলে অনেক সুন্দর দেখা যায়, এজন্য বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসে এতে তাদের আনন্দ লাগে বলে জানান।
কামারগাঁও গ্রামের দুই তরুণ সৈকত ও সজীব বলেন, ফেসবুকে এ জায়গাটার ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে কোনদিন আসিনি। আজই আসছি জায়গাটা দেখতে।দেখে সত্যিই মন ভরে গেল। তাই নিজেদের ফোনে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলে নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছি। তারা আরো বলেন, সত্যি বলতে ছবির থেকেও বাস্তবে দেখতে সুন্দর।
পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গাছ ও প্রকৃতির ছবি দেখেই বন্ধুদের নিয়ে দেখতে আসি। সত্যিই ছবির থেকেও বাস্তবে দেখতে বেশি সুন্দর।
এ বিষয়ে পাচুয়া গ্রামের যুবক তানভীর আহমেদ বলেন, এই স্থান এবং গাছটিকে রক্ষায় আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি গাছের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণ হলে আরো বেশি ভালো হবে। আমাদের পক্ষ থেকে গাছ এবং ফুল রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই গাছটি ভাইরাল হওয়ার ফলে প্রতিদিন শতশত লোক আসছে দেখতে। এতে আশপাশের গ্রামের মানুষও বেশ উৎফুল্ল।
তিনি আরো বলেন, আমার পক্ষ থেকে গতকাল প্রায় একশোর অধিক মানুষকে ইফতার করিয়েছি এবং জনতার বন্ধু ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গাছ এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যা চলমান থাকবে।