এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট সদস্য সিমিন হোসেন রিমি’র নামে কাপাসিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় সিমিন হোসেন রিমিকে হুকুমের আসামি করা হয়। মামলায় আরো ৩১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে আরো ৬০ জন। গাজীপুরের কাপাসিয়া থানায় গত বুধবার এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সাজিদুল ইসলাম জানায়, গত ০৪ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০টায় আমিসহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭০ থেকে ৮০ জন ছাত্র বৈষম্য বিরোধী মিছিল নিয়ে খিরাটি স্কুল মাঠ হতে চালার বাজারে যাচ্ছিলাম। চালার বাজার সেতু পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে উল্লেখিত মামলার আসামিরা আমাদের উপর হামলা চালায়। এই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে ওই এলাকায় তান্ডব চালায়। ওই হামলার সময় আমার ছেলে সাগরকে মাথায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং ১৫ থেকে ১৬ জনকে গুরুতর আহত করে। ওই সময় আসামিদের হামলায় ৫ থেকে ৬টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। উল্লেখিত আসামিদের হামলায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নি সংযোগ ঘটায়। তাদের হামলায় এক কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, সিমিন হোসেন রিমি (৫৫)। মোঃ শহিদুল্লাহ (৬০)। মোঃ হারুন অর রশিদ (হিরণ মোল্লা)(৪৮)। মাহবুব (৪৫), মাজহারুল (৩০), অলিউল্লাহ (৪০), মোঃ ফয়সাল(২৬), জাকির মোল্লা(৩২), রিপন মাঝি(৫০), নুরে আলম টিটু(৪৫), মেজবা উদ্দিন (৫০), তৈমুর (২৫), মারুফ(২৬), ফয়সাল মোল্লা(২৫), শ্যামল(৪২), আব্দুল খালেক (৪০), ইলিয়াস(৪৫), বিকল্প(২৮), বিহেব(২৫), কাজল(২৫), তোফাজ্জল হোসেন (৩০), রাসেল (৩০), মান্নান (৩২), মনির হোসেন (৩৩), রাশেদুল (২৮), আসাদ (৩৮), মিলন মাষ্টার (৪৫), সজিব মিয়া (২৮), জুয়েল মিয়া (৪৫), নাজমুল (৩০), আহম্মদ (২৮), শুভ (২৭) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ১ নং আসামী সিমিন হোসেন রিমির হুকুমে ও নির্দেশে সকল আসামীরা বৈষম্য বিরোধী আত্র আন্দোলনের মিছিলে এক যোগে আক্রমন করে। আসামী মোঃ হারুন অর রশিদ (হিরন মোল্লা) তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে মিছিলের উপরে গুলি বর্ষণ করে। একই সময়ে আসামী মাহবুব, অলি উল্ল্যাহ, রিপন মাঝি তাহাদের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে মিছিলের উপর এলোপাথারী গুলি বর্ষণ করতে থাকে। আমাদের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলের নেতা কর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে ব্রিজের পশ্চিমপার্শ্ব হইতে আসামীগণ ছাত্র আন্দোলনের মিছিলের উপর আসামীদের সঙ্গে থাকা ইট, পাথরের টুকরা ছুড়তে থাকে। এক পর্যায় ব্রিজের দুই পার্শ্ব হইতে আসামীগন তাহাদের সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক ককটেলের বিস্ফারণ ঘটাইয়া ত্রাসের সৃষ্টি করে। তখন আমাদের মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং আমাদের মিছিলের সদস্যগন জীবন বাঁচানোর জন্য দিক বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। সেই সুযোগে আসামীগন তাহাদের সঙ্গে থাকা লোহার রড, হকিস্টিক দিয়ে আমাদের মিছিলের ছাত্রীদেরকে বেদড়ক পিটায় এবং ছাত্রীদের পড়নের ওড়না সালোয়ার, কামিজ টেনে ছিড়ে পৈশাচিক নির্যাতন করে উল্লাস করে। উক্ত সময়ে আসামী মেজবাহ উদ্দিন আমার ছেলে সাগর এর মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপাইয়া মারাত্বক গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে এবং ১০ থেকে ১৫ জনকে গুরুত্বর আহত হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম সাগর চিকিৎসা গ্রহন করে সুস্থ্য হয়। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় আসামীগনের মধ্যে কতক আসামী আমাদের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ থেকে ৬টি মোটর সাইকেলে আগুন ধরাইয়া দেয়। মোটর সাইকেল পুড়ে অনুমান ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এই নৈরাজ্যকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নি সংযোগ করিয়া পুড়াইয়া ফলে। এতে এক কোটি টাকার ক্ষতি করে।
কাপাসিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আবুবকর মিয়া বলেন, মামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক মামলা। এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #