আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৫১ নং ওয়ার্ড টঙ্গী সাতাইশ মৌজায় আব্দুর রশিদ গং ও রঞ্জিত কুমার গংদের মধ্য জমি নিয়ে বিরোধ চলছে , জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে , থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে । ইতিপূর্বে ফৌজদারি অপরাধে রনজিৎ মল্লিক গংদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পুলিশ পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। অপরদিকে রঞ্জিত গং আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ১৪৫ ধারা মোতাবেক আদেশ চেয়েছেন যা চলমান রয়েছে। চলমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে, রঞ্জিত গংদের পক্ষে ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা মিরাজের বিরুদ্ধে জমিতে তালা ভেঙ্গে অনাধিকার প্রবেশ করে সাইনবোর্ড সড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার বাদী ও বিবাদীরা বতর্মানে পাশাপাশি এলাকায় বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে বাদী মোঃ আঃ রশিদ ও বাদী বিবাদী রনজিৎ বিশ্বাস এর মধ্যে গাজীপুর জেলার বর্তমান টঙ্গী থানাধীন সাতাইশ মৌজাস্থিত এস এ ১৩৮ নং আর.এস ৪৪০ নং খতিয়ান ভুক্ত সাবেক ৬৪০ নং আর.এস. ১১২৩ নং দাগে বাড়ী শ্রেণীর জমি ৭৬ শতাংশ ভূমির কাতে ৩৩ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বাদী ও বিবাদী দুই পক্ষই বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা দায়ের করেছে। বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে উক্ত জায়গা জমির মালিকানার বিষয় নিয়ে স্থানীয় ভাবে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
ইতিপূর্বে ফৌজদারী মামলার তথ্যসূত্রে জানা যায়, বিগত পহেলা সেপ্টেম্বর রনজিৎ বিশ্বাস উল্লেখিত তফসিল বর্ণিত জমির চারপাশে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করার জন্য আঃ ছাত্তার পলান খান ও তার ছেলে মোঃ মিরাজ খানদ্বয়কে রাজমিস্ত্রি হিসেবে নিয়োজিত করে। রনজিৎ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার মোঃ উজ্জল হোসেন উক্ত কাজের তদারকি করে। ঘটনার বিষয় দেখে আব্দুর রশিদ বিরোধীয় সম্পত্তিতে রঞ্জিত কুমার এর নিয়োজিত শ্রমিক দিয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মল করার জন্য নিষেধ করেন। তখন রঞ্জিত কুমারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আব্দুর রশিদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে তার ডাক চিৎকার পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসলে, তাদের উপর হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষ সহ আটজনকে গুরুতর আহত করে। তৎকালীন সময়ের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার দাপটে রঞ্জিতের বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ আব্দুর রশিদ গং আদালতে মামলা করলে পিবিআই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে রশিদের পুরো পরিবারকে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে রঞ্জিতের নেতৃত্বে জায়গাতে দখল করে, টিনশেড ঘর নির্মাণ হলে পরবর্তী সময় রশিদের নেতৃত্বে ভাঙচুর করে জমিতে দখল নিযুক্ত রয়েছে । যার প্রেক্ষিতে রঞ্জিত কুমার আদালতে ১৪৫ ধারায় আবেদন করেন, যাহা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনি নিষেধ অমান্য করে ৩ মে ২০২৫ ইং তারিখে রঞ্জিতের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা মিরাজ ও তার সাথে উজ্জ্বল, কাকন তারা দলবদ্ধ হয়ে তালা ভেঙ্গে উক্ত জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে আব্দুর রশিদের লাগানো সাইনবোর্ড সরিয়ে রঞ্জিতের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন । এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ টঙ্গী পশ্চিম থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই বিষয়টি দ্রুত আইনগত সমাধান না হলে, উভয় পক্ষের আইন শৃঙ্খলা চরম অবনতি সহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে রঞ্জিত কুমার বলেন এই জমি আমি ক্রয় করেছি আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেছে যার প্রতিকার চেয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি । সাইনবোর্ড সরানোর বিষয় আমি অবগত নই। তবে যেহেতু মিরাজের ওইখানে জমি রয়েছে, তিনি কিছু করেছে কিনা সেটা আমি জানিনা।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান জানান , এ বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ঘঠনাস্থল পরিদর্শন করেছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।