আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের হায়দারবাদ এলাকায় কয়েক মাস ধরে চলা ঘোড়া জবাই ও জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ। অনুমতি ছাড়াই ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি করায় প্রশাসন বিষয়টি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
গাজীপুরে ওই এলাকায় ঘোড়ার গোশত বিক্রি করায় সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সমালোচিত হয়। আর বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে প্রথম ঘোড়ার গোশত বিক্রি করার প্রচলন, যা মুসলিম দেশ বাংলাদেশে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এস.এম. হারুন-অর-রশিদ নিশ্চিত করেছেন যে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মৌখিকভাবে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঘোড়ার মাংস খাওয়া হারাম নয়। তবে ঘোড়া আমাদের দেশে বিলুপ্তপ্রায় একটি প্রাণী। এ কারণে বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়া জবাই করতে হলে সরকারি অনুমতি এবং নির্দিষ্ট কসাইখানার অনুমোদন প্রয়োজন, যা উদ্যোক্তারা নেয়নি।
চলতি বছরের শুরুতে গাজীপুরের হায়দারবাদ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি শুরু হয়। প্রথমে প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হলেও পরে ৩০০ টাকা কেজি করা হয়। প্রতি শুক্রবার প্রায় ৪০০ কেজি ঘোড়ার মাংস বিক্রি হচ্ছিল।
স্থানীয়রা বলেন, ঘোড়া নবী-রাসূল (সা.)-এর আমল থেকে উপকারী একটি প্রাণী, দেশে প্রতিটি পর্যটন স্পটে এ প্রাণীটি বিনোদন খাতে কাজে লাগছে, এভাবে ঘোড়া জবাইয়ের মাধ্যমে বিলুপ্ত করে ফেললে এক সময় ঘোড়াশূন্য হয়ে যাবে বাংলাদেশে, তাই ভবিষ্যৎ আর যেন কোনো ঘোড়া জবাই বা বিক্রি কেউ করতে না পারে সেটা প্রশাসনের নজরদারিতে রাখতে হবে।
এ বিষয়ে পূবাইল বেপারিপাড়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল হোসাইন জানান, সর্বশেষ হাদিসে খালিদ বিন ওয়ালিদের বর্ণনার ধারায় এটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়।
বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, গরুর মাংসে চর্বি থাকে, কিন্তু ঘোড়ার মাংসে নেই। খেতেও মজাদার। খাওয়ার পর হাত ধোয়ার জন্য সাবানও লাগে না। প্রথমে অনেকে সমালোচনা করলেও পরে অনেকেই নিয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মৌখিক নির্দেশে এখন তা বন্ধ আছে।