আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:
অনুসন্ধানী সাংবাদিক দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে জনসম্মুখে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত সকল খুনিকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, নিহত তুহিনের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে গাজীপুর চৌরাস্তায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গাজীপুর জেলা ও মহানগর কমিটি, আইনী সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, গাছা প্রেসক্লাব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বহু সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যদি পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতো, তাহলে আজ হয়তো তুহিনকে প্রাণ দিতে হতো না।
তারা আরও জানান, তুহিন হত্যায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। “আমরা শুধু গ্রেফতার চাই না, বরং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের ওপর চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়,” বলেন বক্তারা।
বক্তারা সাগর-রুনি হত্যাসহ দেশের সব সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবি করেন এবং তুহিন হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে খুনিদের মদদদাতাদেরও গ্রেফতারের দাবি জানান।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮)। এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তুহিন ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে এবং স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।
জিএমপি’র বাসন থানার ওসি শাহীন খান জানান, তুহিন হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই মো. সেলিম, অপর মামলার বাদী বাদশা মিয়ার ভাই, যিনি তুহিন হত্যার আগে সংঘটিত অপর এক হামলায় আহত হয়েছিলেন। উভয় মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাতজন গ্রেফতার রয়েছে।