আশিকুর রহমান, গাজীপুর:
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহত জুলাই যোদ্ধার মামলায় থানা প্রশাসনের সহযোগীতায় একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল হস্তক্ষেপ করে পারিবারিক আক্রোশ মেটাতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মামলায় আসামী করে হয়রানি করছে। ভুক্তভোগীদের নাম প্রত্যাহার করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগআলী অবস্থিত টঙ্গী প্রেস ক্লাবে নির্যাতিতদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী এবং পরিবারের সদস্যগণ।
সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন সাদিক জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি রক্তাক্তভাবে আহত হন এবং দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নেন। অথচ আজ সেই রক্তের ঋণ ভুলে তাকে ও নিরীহ মানুষদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ৫২ জন প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করে মামলা দায়ের করতে চাইলেও গাছা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে একটি চক্রান্তকারী মহল ১১৮ জনকে আসামি করে মামলা সাজিয়ে আমাকে এবং বহু নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই আমি চিনিও না, তারাও আমাকে চেনে না।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে স্বচ্ছতা আনতে গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। “ওই প্রতিবেদককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে চাওয়া হয়, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে,”।
সালাউদ্দিন জানান, মামলার তদন্তে নিরপেক্ষতা আনতে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেইসঙ্গে দেশের বিবেকবান গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারাই আমাদের প্রকৃত সহযোদ্ধা। ১৯ ও ২০ জুলাইয়ের রাজপথে আপনারাও রক্ত দিয়েছিলেন। আজ সত্য প্রকাশে আপনাদের সহযোগিতা আমার একান্ত কাম্য। আবেগঘন কণ্ঠে সালাউদ্দিন বলেন, “১৯ জুলাই শহীদ রেদওয়ান রিয়াদ আমার কোলে প্রাণ হারান। ২০ জুলাই আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়। আজও আমার মায়ের হাতে ধোয়া সেই রক্তমাখা পোশাকের গন্ধ আমার শরীরে লেগে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের নাম ভাঙিয়ে কিছু ভুয়া নেতৃত্ব আজ চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সংগঠনের আদর্শকে কলঙ্কিত করছে। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের সম্মান রক্ষায় আমি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বো, কিন্তু আমার শহীদ ভাইদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।” তিনি আরও বলেন, “আমি কারও কাছে বিক্রি হইনি, হবও না। যারা টাকা দিয়ে ন্যায়বিচারকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়, তারা যেন জানে সত্য কখনো চাপা থাকে না।
জুলাই আহত যোদ্ধা সালাউদ্দিন সাদিক
এই সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উল্লেখ করেন।
১) আমার মামলার মধ্যে চক্রান্ত করে যে নির্দোষ নিরপরাধ মানুষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদেরকে কোন রকম হয়রানি না করে, এই মামলা থেকে অনতিবিলম্বে অব্যাহতি দিতে হবে।
২) গাছা থানার ওসি সহ এই পুরা যুবলীগ সিন্ডিকেটকে তদন্ত এবং বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) আমি যে ৫২ জন স্বৈরাচারী সন্ত্রাসীর নামে অভিযোগ করেছিলাম অবিলম্বে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।
উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন সাদিক বর্তমানে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষ ও টঙ্গী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।