আশিকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরের টঙ্গীর বহুল সমালোচিত জাভান হোটেলের স্টাফদের বিরুদ্ধে খাবার খেতে আসা গ্রাহকদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন চারজন।
শুক্রবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— রিমন আহমেদ (৩৮), আজাদ (২৯), জাহিদ (৩২) ও সুব্রত (৩০)। তারা সিলেটের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।
আহতরা প্রথমে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী আজাদ জানান, সকালে নাস্তা খাওয়ার জন্য তারা জাভান হোটেলে যান। অর্ডার দিতে দেরি হওয়ায় খাবার বাতিল করলে স্টাফরা ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে হোটেলের পরিচালক সায়মনের নির্দেশে একাধিক স্টাফ লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক মারধর করে। এতে সুব্রত ও তার মাথা ফেটে যায়, জাহিদের পা ভেঙে যায় এবং রিমনের শরীর থেতলে যায়।
আজাদ অভিযোগ করেন, আমাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
অভিযোগ অস্বীকার করে হোটেলের পরিচালক সায়মন বলেন, ঘটনার সময় আমি হোটেলে ছিলাম না। বহিরাগত দুই পক্ষের সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন। আমাদের কোনো স্টাফ জড়িত নয়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে খবর পেয়েছি। ভুক্তভোগীরা চিকিৎসাধীন আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর জাভান হোটেল অন্ধকার ব্যবসার অভিশপ্ত আস্তানা। গাজীপুরের টঙ্গী একসময় কর্মচঞ্চল শিল্পাঞ্চল হলেও, এখানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে অপরাধ জগতের এক ভয়ঙ্কর ঘাঁটি জাভান হোটেল। মাদক, জুয়া ও দেহব্যবসার আস্তানা হিসেবে কুখ্যাত এই হোটেল একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সিলগালা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার ছায়ায় আবারও নতুন রূপে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।