শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo কাপাসিয়ায় বিএনপি নেতা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ Logo নেত্রকোনায় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান উন্নয়নে পূর্বধলায় পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo কাপাসিয়ায় ‘শিখা’ প্রকল্পের অরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত Logo মনোহরদীতে অফিস সময় মানছেন না অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী Logo খেলার ছলে জলবায়ু শিক্ষা: উলিপুরে শিশু-তরুণদের ব্যতিক্রমধর্মী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ Logo সাবেক সফল কমিশনার আবুল কালাম আজাদ আর নেই Logo কাপাসিয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা ১৪৩৩ বর্ষবরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন, প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগ Logo মনোহরদী থানা পুলিশের অভিযানে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
নোটিশঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুণঃ 01735936753 *** বিঃ দ্রঃ  দেশের সকল জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে,আগ্রহীগন সিভি পাঠানঃ muktobartaprotidin@gmail.com এবং 01735936753 ( whatsapp ) ## নোটিশঃ "আজমেরী সরিষার তৈল" ঘাগটিয়া চালা বাজার, কাপাসিয়া, গাজীপুর (পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয়) মোবাঃ  01723219808

পুলিশের পোশাকে চাঁদা তোলেন ‘ভাগিনা নাঈম’মহাসড়কের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুলছে না প্রশাসন

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজাম উদ্দীন

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে। চালকদের দাবি, নির্দিষ্ট প্রতীকযুক্ত টোকেন কিনলে মাসজুড়ে আর কোনো ঝামেলা থাকে না। তবে এই টোকেন না থাকলে কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মামলা, রিকুইজিশনসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। এ ঘটনায় বিশেষ করে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. মারগুব তৌহিদকে দায়ী করছেন চালকেরা। তাঁরা জানান, মারগুবের ভাগনে নাঈম হাসান পুলিশের পোশাকে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেন। সড়কে তিনি ‘ভাগিনা নাঈম’ নামে পরিচিত। তাঁর কথা না শুনলে মারধরসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক মারগুব তৌহিদ বলেন, ‘কাজের সুবিধার্থে মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হয়। তবে কোনো চাঁদাবাজি হয় না।’ ভাগনেকে পুলিশের পোশাক পরানোর বিষয়টি অবশ্য তিনি এড়িয়ে যান।
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহগামী যানবাহনের জন্য ভৈরব একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সড়কের কটিয়াদী-ভৈরব অংশের কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে মাছ, দুই পাখি বা বটগাছ প্রতীকযুক্ত টোকেন দেওয়া হয়। এ জন্য যানবাহনভেদে মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিতে হয়। এই টোকেন থাকলে আর গাড়ি আটকানো হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিএনজিচালক বলেন, মাসে ৫০০ টাকা দিলে আর ঝামেলা নেই। না দিলে কাগজ ঠিক থাকলেও মামলা দেয়। চালকদের দাবি, কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব পর্যন্ত ২০-২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সব কাগজ হালনাগাদ করা আছে। তারপরও মাসিক চাঁদা না দিলে রেহাই নেই। আর মামলা হলে গাড়ি ছাড়াতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ পড়ে। আরেক চালক জানান, হাইওয়েতে গাড়ি আটকালে তাঁরা যাঁর মাধ্যমে মাসিক চাঁদা দেন, তাঁকে ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিরাপদ সড়ক চাই কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, টোকেন পদ্ধতিতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে সড়ক আরও অনিরাপদ হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
চালকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই সড়কে চলাচল করে। মাসে ৫০০ টাকা নিলে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকেই দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এর বাইরে দু-তিন হাজার পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন থেকে মাসে অন্তত ১ হাজার টাকা নিলে এর মোট পরিমাণ দাঁড়ায় অর্ধকোটি টাকার বেশি। কটিয়াদী ও ভৈরব—দুই থানা মিলিয়ে এটি কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।
১৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলখানা মোড়সংলগ্ন একটি চেকপোস্টে সরেজমিনে পরিদর্শক মারগুব তৌহিদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা এক তরুণকে দেখা যায়। নাম জানতে চাইলে প্রথমে তিনি নিজেকে আরিয়ান বলে পরিচয় দেন। পরে প্রশ্নের মুখে জানান, তাঁর নাম নাঈম। পরিদর্শক মারগুব তৌহিদ তাঁকে নিজের ভাগনে বলে স্বীকার করেন। বলেন, ‘বাড়িতে দীর্ঘদিন বেকার ছিল। তাই সঙ্গে করে নিয়ে এনেছি।’ তবে কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘ওসির ভাগনে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে।’ আরেকজন বলেন, ‘নাঈম টাকা তুলে তার মামাকে দেয়। লাকড়ির গাড়ি ৫০০, গাছের গাড়ি ৮০০, বাঁশের গাড়ি ১,৫০০ টাকা।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, পুলিশের পোশাক অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতীক। কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে এই পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি।
হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুলিশের যেকোনো অনিয়ম নজরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন বলেন, নতুন যোগ দেওয়ায় টোকেন বা চাঁদা-বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST