সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ
মাধবপুর উপজেলার গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আলাউদ্দিন তালুকদার গত ১৯শে অক্টোবর ভোর ৫টায় ৯০ বছর বয়সে মানিকপুর গ্রামে নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন।
২১শে অক্টোবর হাজারো মানুষের ভালবাসায় আর শ্রদ্ধায় নিজ হাতে গড়া মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হয়। জানাযায় পরিবারের পক্ষ থেকে উনার বড় ছেলে সাবেক প্রভাষক মিছবাহ উদ্দিন তালুকদার সোহেব বাবার জন্য দোয়া চান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদ বিন কাশেম এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রদান করেন। মরহুমের ১০ ছেলে এক মেয়ের জামাতা অর্থ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল ইমরান রুহুল ইসলাম সহ হবিগঞ্জ এর বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংবাদিক সহ হাজারো মানুষের ঢল নামে।
বর্নাঢ্য রাজিনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলেন দিয়ে এরপরে ১৯৬৯ এর গন অভ্যুত্থান ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রীয় ভাবে
অংশগ্রহণ করে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের কল্যানে নিয়োজিত ছিলেন এই কর্মবীর।
ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যায়ন শুরু করেন কিন্ত ক্লাস সেভেনে পড়া কালীন খুনের মামলায় আসামী হয়ে নির্যাতিত জীবন শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এবং ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে উপজেলা আওয়ামীলীগের দূর্দীনে শক্তহাতে হাল ধরেন দলের। এই জীবনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন গলায় নিয়েছেন শত শত মামলা, কয়েকবার বন্দুকের গুলি থেকে ও রক্ষা পান তিনি।
১৯৮৪ সাল থেকে ২০০০ সাল পযর্ন্ত একটানা বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। নিজ হাতে গড়ে তুলেন তালুকদার ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও এই শিল্প প্রতিষ্টানের চেয়ারম্যান ছিলেন আমৃত্যু। শিক্ষানুরাগী হিসেবে গড়ে তুলেন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে অগনিত ছাত্রছাত্রী আজ দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্টানে কর্মরত।
১৯৮৬ সালে নিজের দাদার নামে প্রতিষ্টা করেন ডাঃ মহিউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজে, মানিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয় এর দাতা বাবার নামে হিলাল উদ্দিন তালুকদার স্মৃতি কিন্ডারগার্টেন, মা ও বাবার নামে আলহাজ আছিয়া হিলাল উদ্দিন তালুকদার ক্বারীয়ানা মাদ্রাসার দাতা, গাউছুল আজম জামে মসজিদের দাতা। উনার নামে উনার সন্তানেরা শুরু করছেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আলাউদ্দিন তালুকদার হাফিজিয়া মাদ্রাসা।
এলাকায় উন্নয়নে ছিলেন একনিষ্ট সমাজসেবক।
রাজনৈতিক জীবন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারন করে আওয়ামীলীগ দিয়ে শরু করে জীবনের শেষ নিঃস্বাস পর্যন্ত মাধবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শত বাধা, হামলা মামলার পরেও নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হননি এই ক্ষনজন্মা শিক্ষাবন্ধু।
মৃত্যুকালে ১০ছেলে ও একমেয়ে নাতি নাতনি সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
উনার মৃত্যুতে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব, বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম মিডল্যান্ডস, হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউকে, হবিগঞ্জ এডুকেশন ট্রাষ্ট ইউকে, ফ্রেন্ডস সোস্যাল ফাউন্ডেশন, শাহজীবাজার, হবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি, ডাঃ মহিউদ্দিন স্কুল ও কলেজ একদিনের শোক প্রকাশ করে ব্যাজ ধারন করেন।
এছাড়া ও দেশ বিদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অপূরনীয় ক্ষতি যা পূর্ন হবার নয় উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। শোক বার্তায় উনারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেধনা প্রকাশ করেন।