নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মায়ের মৃত্যুতে তারেক রহমান যেন আরও একবার নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন। জীবনের এই দিনটি হয়তো কখনোই তিনি চাননি। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় এমন খবর তারেক রহমানকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। এই ক্ষত হয়তো আমৃত্যু বহন করতে হবে তাকে।
মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে লন্ডনে থাকাকালে তারেক রহমান ছিলেন ভীষণ বিমর্ষ। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তেমন দেখা করেননি। অনেকটা সময় কাটিয়েছেন একান্তে। তখন হয়তো মনে মনে ভাবছিলেন মায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার আপসহীন লড়াই আর দীর্ঘ প্রবাসজীবনে মায়ের সেবা করতে না পারার কষ্ট।
১৯৮১ সালে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর রাজপথে নামেন খালেদা জিয়া। তখন খুব অল্প বয়সেই মায়ের পাশে ছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সেই আঘাত এসে লাগে জিয়া পরিবারে। নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তারেক রহমান। একই পরিণতি হয়েছিল ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর। তবে কোকো সেই আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় তার মৃত্যু হয়। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও শেষ দেখা হয়নি তারেক রহমানের। সেই শোকে ভেঙে পড়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আবারও শঙ্কা বাড়ে। বিদেশে নেওয়া ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা আনার সব চেষ্টা করা হলেও তার শারীরিক অবস্থা আর অনুকূলে ছিল না। হয়তো তিনি চেয়েছিলেন, জীবনের শেষ অধ্যায়টি দেশের মাটিতেই শেষ হোক। কারণ খালেদা জিয়া বারবারই বলতেন—এই দেশই তার একমাত্র ঠিকানা।
অনেকে মনে করছেন, তিনি অপেক্ষা করছিলেন প্রবাস থেকে ছেলের ফিরে আসার জন্য। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে তারেক রহমান দেশে ফেরেন। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে জনস্রোত নামে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচিত হন তিনি, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারও পরিবারে নেমে আসে শোক। জীবনের শুরুতেই বাবাকে হারানো, পরে ভাই—এবার মাকেও হারালেন তারেক রহমান। প্রকৃত অর্থেই তিনি এখন একা। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়েই হয়তো তিনি সব কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করতেন। সেই চোখও চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। মা হারানোর বেদনা কতটা গভীর, তা কেবল একজন মা-হারা সন্তানই বুঝতে পারেন।
তবে বিদায়ের আগে খালেদা জিয়া যেন তারেক রহমানকে একটি বার্তাই দিয়ে গেলেন—সব প্রতিকূলতার মাঝেও দেশ ও মানুষের পাশে থাকার, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার। এই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ একা পাড়ি দেওয়া সহজ নয়। তবু সেই পথেই এগোতে হবে—এই শিক্ষাই হয়তো ‘আম্মা’ দিয়ে গেছেন তার প্রাণপ্রিয় তারেককে