কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজাম উদ্দীন
আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কিশোরগঞ্জে একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বসতবাড়ি ও জমি জোরপূর্বক দখল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে ৬০-৭০ জনের একটি দল এই তাণ্ডব চালিয়েছে।
ওই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া বকুলতলা এলাকায়।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা সজল চক্রবর্তী জানান, নগুয়া বকুলতলা এলাকায় তাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলায় আদালত ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন। কিন্তু আদালতের সেই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী বিপ্লব ও হুমায়ুনের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে।
তারা বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়া এবং এক অসহায় বিধবা নারীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। বাধা দিতে গেলে তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপর পুরো বাড়ি ও সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় হামলাকারীরা। সজল চক্রবর্তীর দাবি, বিপ্লব ও হুমায়ুন সম্পত্তিটি দখল করে তাৎক্ষণিকভাবে রিপন সূত্রধর নামের এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় কীভাবে এত বড় দখলযজ্ঞ সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় একদল প্রভাবশালী কীভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করার সাহস পায়? কার সামাজিক বা প্রশাসনিক আশ্রয়ে এই অবৈধ দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো—এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী সজল চক্রবর্তী ও তার পরিবার। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে সজল চক্রবর্তী বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁঞা সাংবাদিকদের জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে—অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”