সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিম্নাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। দুর্ভোগে পড়া মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় শুকনা খাবার ও জরুরি খাদ্য সহায়তা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পৌরসভার সোনাইপুল, ফেনীরকুলসহ বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পৌর প্রশাসক। তিনি পানিবন্দী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভারী বর্ষণে পৌরসভার একাধিক নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।পাশাপাশি সড়কে পানি জমে যাতায়াত ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শুকনা খাবার ও জরুরি খাদ্য সহায়তা তুলে দেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।তিনি বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের টেকসই উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতেও একই দুর্ভোগে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিদর্শনকালে রামগড় পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।