সোহেল কবির, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় ফুটপাত ও মহাসড়কের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে রয়েছে। এতে প্রতিদিনই তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাকান্দাইল মফিজ প্লাজা থেকে গাউছিয়া মার্কেট ও রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসে শত শত ভাসমান দোকান। মাছ, মাংস, সবজি, ফলমূল, পোশাক, জুতা ও ফাস্টফুডসহ নানা পণ্যের দোকানে মহাসড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকারের অভিযোগ, নতুন দোকান বসাতে অগ্রিম ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে দিতে হয়। তাদের দাবি, পরিচ্ছন্নতার খরচের কথা বলে এসব অর্থ আদায় করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, এলাকায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার দোকান বসে, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১৭ বছরে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। অভিযানের কয়েক ঘণ্টা বা একদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে ফুটপাত ও সড়ক।
এদিকে, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। পরিবহন চালকদের অভিযোগ, মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই অনেক সময় এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, “অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও কেন ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত হচ্ছে না এবং এই অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত—তার জবাব এখনো মিলছে না।