আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে ছাত্রদের উপর হামলা ঘটনায় গাজীপুর টঙ্গীর তিন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, টঙ্গী সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান। এছাড়াও গাছা বঙ্গবন্ধু কলেজ অধ্যক্ষ মনির হোসেন সিনিয়র শিক্ষক হানিফ উদ্দিন টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ, আবুল কাশেম সিনিয়র শিক্ষক সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, মোস্তফা কামাল সিনিয়র শিক্ষক সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের কলেজ শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি আবু জাফর আহমেদ এর বিরুদ্ধে উক্ত মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ই জুলাই সরকারী চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা আরোপ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ই জুলাই ২০২৪ইং তারিখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যাঙ্গাত্মক রাজাকার সম্বোধন করলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেয়। উক্ত সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রতিহত করতে বর্ণিত আসামীগণ সহ অন্যান্য আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে ও উস্কানীমূলক বক্তব্য এবং নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ ও দেখামাত্র সরাসরি গুলি করে নিধনের ঘোষণা দেয়।
গত ৪ আগষ্ট সকাল টায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলনে যোগ দিতে আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ
অন্যান্য সকলেই একসাথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পালনে বেরিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে উত্তরা আজমপুর বিএনএস সেন্টার এর সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা কালে
সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও সহ-সভাপতি গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুর রহমান স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে তাদের হুকুমে ও প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় অবৈধ অস্ত্রধারী এজাহার নামীয় আসামিরা ছাত্র-জনতাকে হত্যার উদ্দেশে গুলি ছুড়তে শুরু করে। ঐ সময় তাদের ছোড়া গুলিতে বেলা সোয়া ১১টার দিকে মামলার আজহারে উল্লেখিত আসামীগণের আদেশে ও মদদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র—জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমস্ত শরীরে ও চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষনিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাহার সহপাঠীরা তাকে ধরা-ধরি করে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে ভর্তি করে। ওখানে কিছুদিন থাকার পর ডাক্তার তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ স্থানান্তরিত করে। আব্দুল্লাহ আল মামুন চোখে গুলি লাগাতে এখন সে চোখে কিছুই দেখতে পায় না। এখনো সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ ভর্তি আছে।
এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর বুধবার আহতের পিতা আসান উল্লাহ উত্তরা পশ্চিম থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ২০৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত আব্দুল্লাহ আল মামুন বড়ইগাঁও গ্রামের ত্রিশাল থানার ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা । আহত মামুন গাজীপুর টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থাকত। আহত আব্দুল্লাহ আল মামুন সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন,
কবির হোসেন (৫০) গাজীপুর মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ- সভাপতি,
ফয়েজ আহম্মেদ মিন্টু (৪৭) সদস্য সচিব, ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, শহীদ জঙ্গী(৪০) যুগ্ম আহ্বায়ক, ৪৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ, আমান উদ্দিন সরকার (৫০) আহ্বায়ক সদস্য, গাজীপুর মহানগর যুবদীগ, কে.এম নাছির (৪৫) সাবেক সভাপতি, মাহফুজুল ইসলাম (২৯) সাবেক সভাপতি, ছাত্রলীগ, নীরব (২৮) সাধারণ সম্পাদক, টংগী পূর্ব পশ্চিম থানা ছাত্রলীগ, সিফাত হোসেন রেইন (২৫) যুগ্ম আহ্বায়ক, টংগী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ, বিপ্লব সরদার (৩১) যুগ্ম আহ্বায়ক, ৪৯ নং ওয়ার্ড বদরুল আলম পাশা (৪৮) আওয়ামীলীগ নেতা,কাজী কামরুল (৪৫) সাধারন সম্পাদক, ৫০ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, আবুল কাশেম মেম্বার (৫০) আহ্বায়ক, ৩৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, শাহিন মৃধা (৪২) সাবেক কাউন্সিলর, ৩৯ নং ওয়ার্ড, শাহীম মৃধা (৪০) আওয়ামীলীদ নেতা ৩৯ নং ওয়ার্ড, দেলোয়ার হোসেন (৩৮), শ্রমিকলীগ সভাপতি, ৫২ নং ওয়ার্ড, মহর আলী মৃধা (৪২) আওয়ামীলীগ নেতা, ৪৮ নং ওয়ার্ড,স্বপন মৃধা (২৫) যুগ্ম আহ্বায়ক, টংগী পূর্ব থানা ছাত্রলীগ, লিটন প্রধান (৪৫) সহ-সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ৪৮ নং ওয়ার্ড, লিটন মহাজন (৫৫) আওয়ামীলীগ নেতা, ৪৬ নং ওয়ার্ড, আমজাদ হোসেন (৫০) সাবেক কাউন্সিলর, ৫১ নং ওয়ার্ড, পিতা-অজ্ঞাত, সাং- খৈরতৈল, সাতাইশ, ৫১ নং ওয়ার্ড, জাহিদ হাসান জিহাদ (৩৬) ভুয়া সাংবাদিক, নোয়াগাঁও, থানা- টংগী পূর্ব, হুমায়ুন কবির রানা (৩৮) স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ৫৪ নং ওয়ার্ড, হারুন মিয়া (৩৫) ৪৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা, মোঃ বশির হাওলাদার (৪৬) আওয়ামীলীগ নেতা, ৫১ নং ওয়ার্ড, সমল সরকার (৩২) স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, ৪৮ নং ওয়ার্ড, মঞ্জুরুল হত মঞ্জু (৪৫) সভাপতি, ৫০ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, সাইদুল মৃধা (৩৫) সাধারন সম্পাদক, ৪৮ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কানন মোল্লা (৩৪) সাবেক সভাপতি, টংগী থানা ছাত্রলীগ, ৫২ নং ওয়ার্ড, মশিউর রহমান বাবু ওরফে সরকার, বাবু (২৭) সভাপতি, গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ,
ইকবাল হোসেন (৪০) আওয়ামীলীগ নেতা, উত্তরা ১১ নং সেক্টর, আলমগীর হোসেন (৪০), আওয়ামীলীগ নেতা, ৫১ নং ওয়ার্ড, সেলিম খান (৪০), ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন (৪৫), আওয়ামীলীগ নেতা, ৫৪ নং ওয়ার্ড, খালেদুর রহমান রাসেল (৪৫) সাবেক কাউন্সিসর, ৪৩ নং ওয়ার্ড, মাজহারুল ইসলাম দীপু (৪৫) সাবেক কাউন্সিলর, ৪৪ নং ওয়ার্ড, মোঃ রেজাউল ইসলাম রানা (৪৫), যুবলীগ নেতা, সরকার জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫০) সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
মামলার বাদী আসান উল্লাহ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট ছেলের সঠিক চিকিৎসা ও ন্যায় বিচার দাবি করেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।