এফ এম কামাল হোসেন,কাপাসিয়া (গাজীপুর):
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বয়োবৃদ্ধা মাজেদার বসতঘর ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এবিষয়ে গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জীবনের শুরুতে গার্মেন্টস শ্রমিক এবং পরে সৌদি আরব গিয়ে দীর্ঘ দিন চাকুরী করেন। বিদেশ ফেরত মাজেদা খাতুনের (৬০) সখের সংসার আর টিকিয়ে রাখতে পারেন নি। পাষাণ স্বামী তাকে ত্যাগ করেন। সেই সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায় প্রায় দশ বছর আগে। স্বামীর সংসারে ঠাঁই না পেয়ে অনাহারী মাজেদা খাতুন ফিরে আসেন তার পিতার ভিটায়। সেখানে একটু জমিতে টিনের চাল ও বেড়ার ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেই সাথে একটি রান্নাঘর এবং তার পাশে আরেকটি লাকড়ি রাখার ঘর বানিয়ে কোনরকমে চলছে তার জীবন।
জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া অভিমানী এই নারী জীর্ণশীর্ণ ভাবে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। তারপরও নিজ দায়িত্ববোধ থেকে গত ১৩ জানুয়ারী সোমবার বাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়াইল এলাকায় নাতীর বিয়ে অনুষ্ঠানে যান। মেয়ের বাড়িতে যাওয়াই যেন তার কাল হলো। নিজ ভিটে ফিরে এসে তিনটি ঘরের কোনটিরই চাল, বেড়া কিংবা কোনো আসবাব পত্রেরই হদিস পাচ্ছেন না। সবকিছু যেন উধাও হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের মাজেদা খাতুন (৬০) ১৮ জানুয়ারি শনিবার তার সেই খালি ভিটায় রাখা একটি কাঠের চৌকিতে বসে বিলাপ করছিল আর কান্না জড়িত কন্ঠে ঘটনার বর্ণনা দেন। এ ঘটনায় মাজেদার আপন ছোট ভাই মোঃ সমশের বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ একটি মামলা করেছেন। পরে আদালত পিবিআই গাজীপুরকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই গ্রামের মৃত আবদুল আউয়ালের কন্যা মাজেদা খাতুন আরো জানান, রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় তিনি চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে বগুড়া জেলার এক সহকর্মীর সাথে তার বিবাহ হয়। তাদের সংসারে তাছলিমা নামের একটি কন্যা সন্তান হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়াইল এলাকায় বিয়ে দেন। সেখানে তার কন্যা এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখেই স্বামীর ঘর করছে। গত সোমবার তাছলিমার ছেলের বিবাহ উপলক্ষে সেখানে বেড়াতে যান। এই সুযোগে প্রতিবেশি আঃ মতিন (৪৬) ও তার লোকজন বসতঘরসহ সবগুলো ঘর ভেঙ্গে ফেলে। এ সময় তারা ঘরগুলোর টিনসহ সকল আসবাবপত্র ও টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে গড়ে তোলা সম্পদ হারিয়ে এখন সে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তার আপন চাচা মোঃ সিরাজউদ্দিন (৮৩) জানান, ঘর ভাঙ্গার সময় তিনি বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। তিনি আরো দাবি করেন, মাজেদার বসতঘর ও আশপাশের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি তার পিতার নামে সি.এস এবং আর.এস নকশায় রেকর্ডভুক্ত এবং ১৯৪৪ সাল থেকে হালনাগাদ খাজনা দিয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। এ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আদালতে মামলা দিলেও আদালত পরপর দুইবার তাদের পক্ষে রায় দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় টোক ইউনিয়ন পরিষদ ফিসে বার বার শালিস বৈঠক হলয় এবং চেয়ারম্যানও তাদের পক্ষেই লিখিত রায় দেন। তাই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বসতঘর ভেঙ্গে মালামাল লুটপাট করে নেওয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিবাদি আঃ মতিন জানান, এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, তাই তার লোকজন টিনের ঘরগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে। তবে তিনি তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা আদালতের কপিটি হাতে পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।