মোঃ রবিউল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি (গাজীপুর):
গাজীপুরে এক পুলিশ কর্মকর্তার বে-আইনী কর্মকান্ডে সাবেক এসপিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার সাবেক আলোচিত ওসি সৈয়দ মোঃ মিজানুর ইসলামের বে-আইনী কর্মকান্ডে আদালতে ১৮৬০ সালের দণ্ড বিধির ৩২৩/৪৯৩/৪৯৪/৪৯৫/৪৯৬/৩৭৯/৫০৬(।।)/১০৯ ধারায় ১৪৮৬/২০২৪ নং সিআর মামলা করেছেন। গাজীপুরের সাবেক এসপিসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তা ও স্টেনোগ্রাফারের বিরুদ্ধে গাজীপুরের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ মামলাটি দায়ের করেছেন কলেজছাত্রী ঝর্ণা আক্তার ওরফে বর্ষা (১৯)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। মামলাটি আমলে নিয়ে গাজীপুর পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার আহমেদ। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান উক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযুক্তরা হলেন, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার সাবেক ওসি সৈয়দ মোঃ মিজানুর রহমান, সাবেক পুলিশ সুপার কাজী সফিকুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম, ওসি ডিবি দেলাওয়ার হোসেন ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার মো. আব্দুল করিম। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানায় ওসি মিজান কর্মরত ছিল। সে সময় স্ত্রী সন্তানের কথা গোপন রেখে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, বিয়ের প্রস্তাব দেয় ওসি মিজান। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কলেজ ছাত্রীর বোনের জামাইকে প্রায়ই থানায় ডেকে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রেখে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে নির্যাতনের ভয় দেখাতো। ওসি মিজান ভুক্তভোগীকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য তার নামে মানিকগঞ্জে ৮১/১ নং নির্মাণাধীন মেসার্স এসকে এন্টারপ্রাইজের ভবনের ১০ তলায় ১ টি ফ্ল্যাট বুকিং করেন তিনি।গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। এই কারণে নির্বাচন কমিশন ওসি মিজানকে মানিকগঞ্জ থেকে গাজীপুরে বদলী করে।জয়দেবপুর থানায় যোগদান করে গত ১৭ জানুয়ারি রাতে কলেজছাত্রী ঝর্ণার ফোন পেয়ে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। পরে ধর্ষন মামলা থেকে রক্ষা পেতে গাজীপুরের সাবেক এসপি কাজী শফিকুল আলম ও ডিবি পুলিশের ওসি দেলাওয়ার হোসেনের পরামর্শে ওই ওসির প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৮ জানুয়ারি কলেজছাত্রী ঝর্ণাকে বিয়ে করেন ওসি সৈয়দ মিজানুর রহমান। বিয়ের পর ওসি মিজান একদিনের জন্যও ছাত্রীর সাথে সংসার করেননি এবং কোন খোঁজখবর নেননি। ধর্ষন মামলার আলামত নষ্ট করে গত এপ্রিল মাসে ওই কলেজছাত্রীকে গোপনে একতরফা তালাক প্রদান করেন ওসি মিজান। এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানার সাবেক ওসি সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, আমি বিয়ে করেছি। বনিবনা না হওয়ায় গত এপ্রিল মাসে আইন মেনে তাকে তালাক দিয়েছি।