আশিকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও থামেনি বিচার দাবির আন্দোলন। সহকর্মী হারানোর শোক, ক্ষোভ ও দ্রুত বিচারের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। বাবার হত্যার বিচার দাবিতে ব্যানার হাতে কর্মসূচিতে অংশ নেয় তুহিনের ছয় বছরের ছেলে তৌকির।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় গাজীপুর সিটির চান্দনা চৌরাস্তার ‘তুহিন চত্বরে’ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ও ভাওয়াল প্রেস ক্লাব বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচি থেকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ সময় তুহিনের ছয় বছরের ছেলে তৌকির বাবার হত্যার বিচার দাবিতে ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। শিশুটির হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—‘৭ আগস্ট সাংবাদিক তুহিন হত্যার এক বছর, বিলম্ব নয় দ্রুত বিচার আইনে বিচার করতে হবে।’
এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এক বছর পর একই স্থানে দাঁড়িয়ে তাঁর সহকর্মীরা বিচার দাবিতে আবারও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমানুষের বাকস্বাধীনতার ওপরও আঘাত। প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিক হত্যার শিকার হওয়ার পরও বিচার বিলম্বিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁরা সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. তাওহীদ হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, ঢাকা জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কাশেম তালুকদার এবং কেন্দ্রীয় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতা সিকান্দার আলী বাবুলসহ সাংবাদিক নেতারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তুহিন হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, বাংলাদেশে বহু সাংবাদিক হত্যার বিচার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকলেও আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলা সাংবাদিক সমাজের জন্য আশার আলো।
তিনি বলেন, এ মামলার দ্রুত রায় হলে তা দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তুহিনের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।