আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের ভুষির মিল এলাকায় কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে। রবিবার (৯ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টায় এ অবরোধ শুরু হলে রাত সারে ১২টা অবদি মহাসড়ক অবরোধ থাকে। এতে দীর্ঘ প্রায় সারে ৪ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোগান্তিতে পড়েন মহাসড়কে যানবাহন ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রীরা।
শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, গাজীপুরের হারিকেনের ছয়দানা ভুষির মিল এলাকার ডেগেরচালায় সেল্ফ ইনোভেটিভ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া পাওনা রয়েছেন মালিক কর্তৃপক্ষের নিকট। এছারা কারখানার স্টাফরা ৭-৮ মাসের বকেয়া বেতন পাওনা রয়েছেন। এসব বকেয়া পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবিতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কারখানার শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা বলছেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন। সবশেষ কলকারখানা ও শ্রমিক ফেডারেশন কর্তৃপক্ষকে অবগত করলেও সমাধান আসেনি। রবিবার বেতন দেয়ার কথা থাকলেও বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন মালিক ফাহমিদুর রহমান। পরে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহা-সড়ক ব্যাবহারকারি চালক-যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে। বাদ যায়নি রোগীবাহি এম্বুলেন্সও।
সড়কে আটকে থাকা যাত্রী ও চালকরা বলছেন, সড়কে শ্রমিক অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যাত্রী ও চালক উভয়ে রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সড়ক ব্যাবহারকারি অসুস্থ রোগীরাও আটকা পড়েন তীব্র যানজটে। তবে সরেজমিনে কিছু এম্বুলেন্সকে বিকল্প পথে যাবার নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে অবরোধকারীদের।
বাসে আটকা পরা এক নারী যাত্রী বলেন, এভাবে আটকে থাকলে নারীদের জন্য অনিরাপদ। ভুক্তভোগী আরেক যাত্রী বলেন আমি চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে এমন ঘটনা গারীর সিটে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছি। বাস চালক বলেন চারঘন্টা ধরে আটকা পরে আছি অনেক কষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার ইমরান, স্টাফ শান্ত, শ্রমিক নাসিমা, রবিনসহ আরো অনেকেই জানান, শ্রমিক ও স্টাফ সকলের পাওনা পরিশোধ না করে বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকরা সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন। বকেয়া পরিশোধ না করায় তারা নানা সমস্যায় রয়েছেন। বাড়ি ভাড়া, দোকানে বকেয়া এসব সমস্যা নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক সদস্য কাউসার আহাম্মেদ ঘটনাস্থলে জানান শীঘ্রই সমাধানের চেষ্টা চলছে।
খবর পেয়ে শিল্প ও থানা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছারা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও শ্রমিকদের সমস্যা নিরসনে এগীয়ে আসেন। পরে শ্রমিকদের বুঝাতে ব্যার্থ হলে এক পর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
পরে শ্রমিকদের সাথে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘসময় কথা বলে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেন। এ সিদ্ধান্তকে শ্রমিকরা স্বাগত জানিয়ে ঘড়ে ফেরার পূর্বে আগামী বুধবার কারখানার সামনে সকল শ্রমিকদের সমবেত হবার নির্দেশনা দেন। তাদের মধ্যে রবিন জানান সেদিন বকেয়া পরিশোধ করা না হলে, পরবর্তী কর্মসূচি ঘেষণা দিবেন শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর ডিসি) নাসিরুদ্দিন বলেন, যৌথবাহিনীর চেষ্টায় শ্রমিকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে রাত সারে ১২টায় সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।