কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযথ নিয়মে কুরবানির পশু জবাই ও কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৪ মে রবিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: তামান্না তাসনীম। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: মো: হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্ককর্তা ডা: এ কে এম আতিকুর রহমান।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম খতিব, আলেম – ওলামা, মাদরাসার শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,
পবিত্র কোরবানির পশু যথাযথ নিয়মে জবাই এবং চামড়া সংরক্ষণের জন্য সঠিক নিয়মকানুন অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
প্রশিক্ষণ সূত্রে জানাযায় যথাযথ নিয়মে কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণের অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেতে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
পশু জবাইয়ের প্রস্তুতি ও করণীয় হলো-
বিশ্রাম: জবাইয়ের আগে পশুকে পর্যাপ্ত পানি ও খাবার দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।
স্থান নির্বাচন: জবাইয়ের স্থানটি উঁচু, সমতল ও পরিষ্কার হতে হবে। রক্তের জন্য আগেই গর্ত করে ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক ছিটিয়ে রাখতে হবে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম: ছুরিটি পর্যাপ্ত ধারালো হতে হবে যেন এক টানে জবাই সম্পন্ন করা যায় এবং পশুকে যেন অহেতুক কষ্ট দেওয়া না হয়।
চামড়া ছাড়ানোর নিয়ম গুলো হলো-
টানাহেঁচড়া বন্ধ: পশুকে শোয়ানো অবস্থায় কোনোভাবেই টানা-হেঁচড়া করা যাবে না, এতে চামড়ায় দাগ পড়ে বা ফেটে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কাটার সঠিক মাপ: চামড়া ছাড়ানোর সময় প্রথমে সামনের এক পা থেকে বুকের ওপর দিয়ে অন্য পা পর্যন্ত লম্বালম্বি কাটতে হবে। পেছনের এক পা থেকে অন্য পা পর্যন্ত লেজের গোড়া থেকে চার-ছয় ইঞ্চি ওপর দিয়ে কাটতে হবে।
চামড়া তোলা: চামড়া টেনে তোলার সময় ধারালো ছুরির পরিবর্তে হাত দিয়ে টেনে বা চাপ দিয়ে ছাড়ানো উত্তম।
চামড়া সংরক্ষণের পদ্ধতি হলো-
চামড়া যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য দ্রুত লবণ প্রয়োগ করতে হবে।
পরিষ্কার করা: চামড়া ছাড়ানোর পর পশুর গায়ের সব চর্বি ও মাংস ভালোভাবে কেটে পরিষ্কার করতে হবে এবং চামড়ার ভেতরের অংশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
লবণ লাগানো: চামড়াটি উপুড় করে বিছিয়ে এর ভেতরের অংশে পর্যাপ্ত পরিমাণ (সাধারণত চামড়ার ওজনের ১৫-২০% বা মাঝারি আকারের গরুর চামড়ায় প্রায় ৮-১০ কেজি) মোটা লবণ সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।
শুকানো ও সংরক্ষণ: লবণ দেওয়ার পর চামড়াটি কাত করে রাখতে হবে, যাতে ভেতরের রক্ত ও পানি সহজেই গড়িয়ে পড়তে পারে। লবণ লাগানোর পর চামড়া ছায়াযুক্ত স্থানে বা ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে এবং চামড়া যেন সরাসরি রোদে না শুকায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পরিবেশ দূষণ রোধে জবাইয়ের পর অবশিষ্ট বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে গর্তে মাটি চাপা দিয়ে দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিত।