সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ
ভোজন বিলাসী বাঙালির শীত এলেই গ্রামে-গঞ্জে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতাই পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও শীতের পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে।
মাধবপুর উপজেলার আনাচে-কানাচে এখন এই শীতে পিঠা ব্যবসায়ীদের পিঠা বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চলছে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম।
উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় বাদশা গার্মেন্টস কোম্পানির সামনে রাস্তার পাশেও পিঠাপুলির ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। এসব দোকান থেকে কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকেরা এমনকি গার্মেন্টসের শ্রমিকরাও পিঠা ক্রয় করেন।
ওইসব দোকানে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতাদের সমাগম বৃদ্ধি পায়। ক্রেতাদের সমাগমে বিক্রেতারাও খুশি। পিঠার দামও বেশি নয়। চিতই পিঠা ১০ টাকা ও ভাপা পিঠা ১০টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এ ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন অনেক বিক্রেতা।
হরিতলা বাদশা গার্মেন্টস কোম্পানির সামনে বাজারের পিঠা বিক্রেতা মো. মিয়া উদ্দিন জানান_ “তিনি শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেন। তার প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টাকা বিক্রি হয়। যার মধ্যে প্রায় হাজার টাকার মতো তার লাভ তাকে। বিক্রি ভালো বিধায় সে খুশি”।
তিনি আরও জানান_ “এই পিঠা দাম কম হওয়ায় সব ধরনের মানুষই এখানে ভিড় করেন পিঠা খেতে। কেউ কেউ আবার পিঠা কিনে নিয়ে যান বাসায় খাওয়ার জন্য। অন্যদিকে বিভিন্ন রকমের ভর্তার পিঠাও রয়েছে। যাতে কাঁচামরিচ সরিষাবাটা ও হিদল থাকে”।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম পিঠা খেতে এসে বলেন_ “আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর এসব দোকান থেকে পিঠা খাই। আগে যদিও বাড়িতে এসব পিঠা বানানোর হিড়িক পড়তো এখন তা আর দেখা যায় না”।
গার্মেন্টস কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন_”আমি নাস্তার টাইমে মাঝে মাঝে এসব দোকান থেকে পিঠা কিনে খাই। সন্ধ্যার নাস্তাও হয়, শীতের একটা আমেজও পাওয়া যায়। এসব পিঠা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও এই ঐতিহ্যকে লালন করি”।