এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) :
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত ‘ কাপাসিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘মেধা ও সৃজনশীলতা উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফ পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য মাওলানা সেফাউল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম মোস্তফা মিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রাসেল সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ খলিলুর রহমান, কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আফজল হোসেন সৈয়দ মেম্বার, সাংবাদিক সফিকুল আলম সবুজ, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল কাইয়ুম এবং হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ অর্জনের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই কাপাসিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, শুধু জ্ঞান ও মেধা অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যকে সহযোগিতা করা এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই শিক্ষাজীবনের সার্থকতা অর্জিত হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।