আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :
টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ‘যমুনা অ্যাপারেলস’-এর শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে করেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের ছাঁটাই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে তারা প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার পর থেকেই কয়েক শতাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। “চাকরি চাই, ন্যায্যতা চাই” চাকরিচ্যুত শ্রমিক ভাইবোনদের চাকরিতে পুনর্বহাল চাই”।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বেশ কিছু অভিজ্ঞ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের শ্রম আর দক্ষতার পরও এভাবে চাকরি হারানো অমানবিক। অনেকের পরিবার নির্ভরশীল ছিল এই আয়ের ওপর।
এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা বছরের পর বছর এখানে কাজ করেছি। এখন কোনো কারণ না দেখিয়ে আমাদের রাস্তায় ফেলে দিল। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
জানা যায়, উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগে গত মঙ্গলবার কারখানাটির ১১৬ শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। শ্রম আইন অনুযায়ী তাঁদের সব পাওনা পরিশোধ করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। শনিবার সকালে কারখানার অন্য শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। পরে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার ভেতর কর্মবিরতি শুরু করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে যমুনা অ্যাপারেলসের প্রশাসনিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কিছু অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনার কারণে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রম আইনের ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত ও পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা কারখানার আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে। কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দাবি মেনে নেওয়া না হলে তারা পরবর্তীতে কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেবেন এবং প্রয়োজনে রাস্তায় নামবেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকেরা কারখানা ছেড়ে চলে যান।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) ইসমাইল হোসেন বলেন, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শ্রমিকেরা দিনভর কর্মবিরতি পালন করেছেন। পরে সেনাসদস্যরা এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান ছাড়াই বিকেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানা ছেড়ে চলে যান।