এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) :
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর কতিপয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোঃ মোশারফ হোসেনকে অপহরণ ও মুক্তিপণের দাবির প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার ঘাগটিয়া চালার বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রশীদ নয়ন সভাপতিত্ব করেন। এলাকার প্রায় ৫’শত নারী-পুরুষ সমবেত হয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
এসময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ঘাগটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মাঝি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা হাবিবুর রহমান শাহীন বন্দুকসী, সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মুকুল, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য কমল মাঝি, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মোঃ মামুনুর রশিদ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম, যুবদলের সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
অপহরণের স্বীকার স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তুচ্ছ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কতিপয় কর্মীদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে গাজীপুর -৪, কাপাসিয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবীর খালাতো ভাই- মামাতো ভাই পরিচয়ে মোঃ আব্দুল্লাহ ও মোঃ রাকিব এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন ব্যক্তি কিছু দিন যাবত নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন গত ১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে দোকান বন্ধ করে স্থানীয় বাওরাইদ গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের নীচে অপেক্ষায় ছিলেন। এসময় উল্লেখিত ব্যক্তিরা এসে তার সাথে পূর্বের ঘটনার সমাধানের কথা বলেন এবং তাকে কৌশলে অপহরণ করে মোটরসাইকেল যোগে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। স্থানীয় শালদৈ মোড়, মাদুলি বিলের ব্রিজ এবং কামারগাঁওস্থ কাঁঠালিয়া বিল নামক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে ব্যাপকভাবে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে তল্লাশির নামে ইয়াবা টেবলেট দিয়ে ভিডিও করে। পরে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং অন্যথায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভিডিও ভাইরাল করে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয়। তখন প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এব্যাপারে মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল্লাহ (৩৫) কে এলাকাবাসী আটক করে বুধবার রাতে কাপাসিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। সে ঘাগটিয়া ইউনিয়নের জাব গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র মোঃ রাকিব (২৭)। তারা নিজেকে এমপি সালাহউদ্দিন আইউবীর খালাতো ও মামাতো ভাই বলে পরিচয় দেয়। নির্বাচনের পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদের নানা ভাবে হয়রানির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
এব্যাপারে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম জানান, আটককৃত মোঃ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বাদী মোঃ মোশারফ হোসেনের দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে ওসি জানান।
এব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সভাপতি ইমতিয়াজ বকুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ এবং রাকিব নামে তাদের সংগঠনে কেউ নেই। তাদের কৃতকর্মের জন্য জামায়াতে ইসলাম কোনো ভাবে দায়ী না।