আশিকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—টঙ্গীর পাগাড় এলাকার মৃত আলম খানের ছেলে নুর ইসলাম বাবু ওরফে খান বাবু (৩৮), একই এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে তরিকুল ইসলাম জিহাদ (২৩), ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার বালিয়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে মামুন (২৬) এবং রংপুরের কাউনিয়া থানার হারাগাছ গ্রামের মৃত লাবলু মিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান জনি (২৮)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে টঙ্গীর গোপালপুর এলাকা থেকে নুরুল ইসলামকে তার প্রতিপক্ষরা তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে টঙ্গী নদীবন্দরসংলগ্ন ইটখোলা এলাকায় নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে নুরুল ইসলামের সহযোগীরা তাকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এরপর সহযোগীরা মরদেহটি বাসায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি খান বাবুসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, এজাহারভুক্ত তিনজন এবং তদন্তে প্রাপ্ত একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।