নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল খালেক গংদের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা ও রাস্তা কর্তন, খুন জখমের হুমকিসহ হয়রানির প্রতিবাদে এবং চলাচলের রাস্তা পূর্বের অবস্থায় করে দেওয়ার দাবিতে প্রায় ৫০টি পরিবারের শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ১২টায় উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর (দুলাল মার্কেট) এলাকায় মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, ‘আমি গত প্রায় চার বছর আগে
খালেক প্রফেসর এবং আমি মিলেমিশে জমির ক্রয়সূত্রে মালিক জনৈক ফজলুল হকের কাছ থেকে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের জন্য আবেদন করলে সে রাস্তা দিতে সম্মত হয়। পরে আমরা অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনে এনে রাস্তায় ফেলে চলাচলের উপযোগী করি।
এতে করে দুলালপুর-চান্দেরপুল রাস্তার সংযোগ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি ৩ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করে চলাচল করে আসছি। বিগত দুই বছর যাবত স্থানীয় আব্দুল খালেক, আমির উদ্দিন, জিসান, মাসুদ রহমান, ফারুক হোসেনসহ তাদের তিনজন সহযোগী রাস্তায় খুঁটি পুঁতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খুঁটি উঠিয়ে দেয়। সম্প্রতি তারা আবার রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করে। এ সময় বাঁধা দিলে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ও বাড়িঘরে হামলা করার হুমকি দেয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বসলে মীমাংসা না হওয়ায় তিনি কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে অভিযোগকারী মিনারা বেগম তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পেয়ে স্থানীয় এমপির সহযোগিতা চান।
তিনি বলেন, ‘আমাকে এখান দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা দিতে হবে। অন্যথায় রাস্তা নির্মাণের তিন লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে।’
স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবারের লোকজন চলাফেরা করে। রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও গ্রামের শিশু-কিশোররা চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশীদ বলেন, জমির মালিক ফজলুল হকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে জমির যেকোনো এক পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করায় ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যায় না। আমরা গ্রামবাসী স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতায় পুনরায় রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বারিষাব ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) তাহের মুন্সি বলেন, আমি নিজে উপস্থিত থেকে তাদের অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। পরে শুনছি, স্থানীয় কে বা কারা রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করেছে। এতে করে ওই গ্রামের প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবারকে চলাচলের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল খালেকের ভাই সুলতান মাস্টারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, পূর্বে এই জায়গাটা দিয়ে পায়ে হাঁটার রাস্তা ছিলো। কিন্তু এখন আর বড় রাস্তার প্রয়োজন নেই বিধায় আমরা রাস্তাটি সরিয়ে ফেলেছি। রাস্তার জায়গাটা আমাদের ব্যক্তিগত জোত।
মিনারা বেগমের দাবীকৃত ৩ লক্ষ টাকা আব্দুল খালেককে দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিন লক্ষ টাকা দেয়ার কোন ধরনের ডকুমেন্ট নেই।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে দায়িত্ব দেয়া হয়।
মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মিনারা বেগমের অভিযোগটিও বারিষাব ইউনিয়নের প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।