এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) :
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মুরগির পিকআপ থেকে টাকা ডাকাতির সময় হেলপারকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পিকআপ চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতরা নগদ দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পিকাপ চালক কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে ঘটনাটি পরিকল্পিত।
নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার মরেজপুর গ্ৰামের মোঃ আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ জাকিরুল ইসলাম (২০)। আহত চালক কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার মাদখোলা গ্ৰামের মোঃ ছিদ্দিকের ছেলে মোঃ হৃদয় (২৭)।
পিকআপ চালক হৃদয় জানান, গত শনিবার দিবাগত রাতে আনুমানিক আটটার সময় গাজীপুরের হাড়িনাল থেকে কাপাসিয়ার কড়িহাতা ইউনিয়নের রামপুর এলাকা হতে ব্রয়লার মুরগী কিনে আনার জন্য সে এবং তার সহযোগীসহ পিকআপ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। (ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৪৫৬১) পিক-আপটি চালাচ্ছিল চালক সে নিজেই। তখন তার পাশে বসা ছিল সহকারী মোঃ জাকিরুল ইসলাম। রাত যখন একটা ২০ মিনিট তখন কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের সালদৈ হতে আড়ালগামী পাকা রাস্তায় পৌঁছালে ডাকাতরা পিকআপের সামনের গ্লাসে ঢিল মারে। তখন হৃদয় গাড়ির গতি কমিয়ে দিয়ে কি হয়েছে বুঝার চেষ্টা করে। পিকআপের গতি কমার সাথে সাথে ডাকাতরা পিকআপ ঘিরে ফেলে এবং তাকে পিকআপ থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করে মুরগি কেনার টাকা কোথায়। তখন হৃদয় তার সহকারীর কাছে টাকা রয়েছে বলে জানায়। পিকআপের ভিতরে বসে থাকা চালকের সহকারিকে ডাকাতরা জিজ্ঞেস করে টাকা কোথায় বের করে দে। চালকের সহকারি টাকা বের করে দিতে রাজি না হওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডাকাতরা জাকিরুলের গলায় কোপ দিলে তার শ্বাসনালী কেটে যায়। পরে ডাকাত সদস্যরা চালকের সহকারীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ডাকাতরা পিকআপ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, পরে মৃত সহকারীকে নিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পিকআপ চালিয়ে কাপাসিয়া সদরে অবস্থিত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চায়ের দোকানদার সাইফুলকে বিষয়টি জানায়। ঘটনা জানার পর সাইফুল সাথে সাথে কাপাসিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। রাত আড়াইটার দিকে কাপাসিয়া থানা পুলিশ আহত চালক ও সহকারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক চালকের সহকারীকে মৃত ঘোষণা করে এবং চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে চালক হৃদয়কে আটক করেছেন। চালক একেক সময় একেক রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। ইতোমধ্যে চালকের কাছ থেকে ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পিতা মোঃ আব্দুল খালেক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।#