কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সরকারি বনভূমি থেকে সংঘবদ্ধভাবে শাল-গজারি গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের এক প্রহরীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে একটি কাঠচোর চক্র বনভূমি থেকে গাছ কেটে পাচার করে আসছে। তবে বিট কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান গাছ চোরদের ধরতে তৎপর রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া রেঞ্জের গোসিংগা বিটের পাকিয়াব সাব-বিট এলাকার বিল্লুমাঝির টেকের ৬৯০ নম্বর দাগের সরকারি বনভূমি থেকে গত কয়েক দিনে অন্তত ৫০টির বেশি শাল-গজারি এবং ২০টির বেশি আকাশমণি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠচোর চক্র রাতের আঁধারে ট্রলি ও ভ্যানযোগে এসব গাছ কেটে বিভিন্ন করাতকল ও কাঠের বাজারে পাচার করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত বন প্রহরী মামুনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আকারে গাছ কাটা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘুষের বিনিময়ে কাঠচোরদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি বনভূমি ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
এছাড়া গত ১০ মার্চ ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে গেলে সেই খবর বন প্রহরী মামুনের কাছে মোবাইল ফোনে পৌঁছে দেন রিয়াজ উদ্দিন। তথ্যটি মামুন নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
ওয়াচারম্যান আলম জানান, গোসিংগা বিটের ফরেস্টারের নির্দেশে বিল্লুমাঝির টেক এলাকায় কাটা গাছের গোড়ায় কয়েক দিন আগে হাতুড়ির চিহ্ন (হেমার) দেওয়া হয়েছে। তবে বন প্রহরী মামুনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান, যদিও ঘটনাটি সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন।
শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাছ কাটার খবর পেয়ে গোসিংগা বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় রিয়াজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে সরকারি গাছ কাটার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
গোসিংগা বিট কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই সরকারি বনভূমি থেকে গাছ কেটে নেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এ বিষয়ে শনিবার একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রিয়াজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইন ১৯২৭ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তার বিরুদ্ধে আইনের ২৬(১)(ক), ২৬(১)(খ), ৩৩ ও ৫২ ধারায় অভিযোগ আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল, গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক এ.এন.এম. মুনীর হোসাইন মোল্লা গাজীপুরের শাল-গজারি বনকে “অক্সিজেন ভান্ডার” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব বন উজাড় হলে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু একজন কাঠচোরকে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে থাকা পুরো সিন্ডিকেট এবং অভিযোগ ওঠা বন প্রহরীর ভূমিকা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বিল্লুমাঝির টেকসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বনভূমি অচিরেই উজাড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।