এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) :
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিমিন হোসেন রিমির বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় আরও ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেছেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য সচিব ও তরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে জুনায়েদ হোসেন লিয়ন।
এই মামলায় সিমিন হোসেন রিমিকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান প্রধান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ সেলিম, যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আমানত হোসেন খান, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব ঘোষ, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ইমানুল্লাহ শেখ ইমু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মামুন, সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা, কড়িহাতা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মোড়ল, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান লস্কর মিঠু, চাঁদপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ খান, সালাউদ্দীন লষ্কর শ্যামল, মো. লিখন করাচী, ইসমাইল হোসেন মিজান, মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, তরগাঁও ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আয়ুবুর রহমান সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম ছিদ্দিকী, বারিষাব ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আতাউজ্জামান বাবলু, মো. কামাল হোসেন হান্নান, চাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান সরকার, দূর্গাপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা, রাকিব প্রধান, রায়েদ ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল হাকিম মোল্লা (হিরণ) মো. মস্তফা কামাল (বাদল মোল্লা), মো. সামসুল হুদা (লাল মিয়া) মো. বজলুর রহমান চান মিয়া, এম এ জলিল।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাবেক সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির নির্দেশে কয়েকশ আসামি উপজেলার ফকির মজনু শাহ সেতু এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ সময়ে কাপাসিয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা শামীমা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ফকির মজনু শাহ সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে পৌঁছালে অভিযুক্ত আসামিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আসামিদের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়িয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই সময় আসামিদের মারপিটের ফলে আল-আমিন হোসেন সোহাগকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং মো. ফরিদ শেখকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ফরহাদ হোসেনকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আরও ১০-১৫ জন গুরুতর আহত হয়। আহত সকলকে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ হামলার ঘটনায় ৬১ জনের নাম এবং ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫-৬টি মোটরসাইকেল সরকারি ডাক-বাংলোতে গানপাউডার দিয়া আগুন ধরাইয়া দেয়।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#