শরিফুল ইসলাম, ক্রাইম রিপোর্টার, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে আলামিন (২৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর নগরবাড়ী এলাকার লাল মিয়ার ছেলে আলামিনের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে কদর আলীর মেয়ে সুমি আক্তার (২৬)-এর ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই আলামিন তার স্ত্রী সুমির কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি স্ত্রীকে ঠিকমতো ভরণপোষণ না দিয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো।
গত ১১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কালিহাতী থানাধীন চর নগরবাড়ী এলাকায় আলামিনের বসতঘরে পূর্বের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলামিন তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন এবং গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুমির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে তার বাবা কদর আলী মেয়েকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আলামিন দ্বিতীয় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে সুমির কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। মেয়ের চিকিৎসা ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করার কারণে থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারায় মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযুক্ত আলামিনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
কালিহাতী থানার এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিক বলেন,নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।