এ এইচ সবুজ, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মহাখালী-গুলশান লাগোয়া কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৬ টি ইউনিট। আরো তিনটি ইউনিট পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে হাজার হাজার মানুষের জিনিসপত্র ও কষ্টে গড়া শেষ সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের পাশেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বস্তির বাসিন্দা লাভলী বেগম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ও ভাই আমার সব পুইড়া শেষ হয়ে, কিচ্ছু নেই। আমি সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। অনেক কষ্টে তিল তিল করে জিনিসপত্র কিনেছিলাম। ঘরে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনেছিলাম। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ আগুন আমার সব শেষ করে দিল। আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি।
এছাড়াও কড়াইল বস্তির বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী নাসিমা বেগম জানান, বোনের ফোনে খবর পেয়ে দ্রুত বস্তিতে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তিনি বলেন ‘শুনেছি আমার ঘর পুড়ে গেছে, সব জিনিস শেষ হয়ে গেছে। এখন কিভাবে কি করবো, বুঝতে পারছি না।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। যানজটের কারণে এখনো পথে রয়েছে তিনটি ইউনিট।
তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।