সাগর আহমেদ জজ,(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
বাবা-মা ও ভাইদের জীবনের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাচ্ছু মিয়া নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে আব্দুর রহমানের পরিবার। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।
ছয় সন্তানের জনক আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে আসছেন। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের পরিবারে মেয়েদের বিয়ে সম্পন্ন করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসা এই পরিবারটি নিরাপদ বসতভিটার আশায় জীবনের শেষ সম্বল জোগাড় করে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের ১২ শতক জমির ওপর বসতভিটা থাকলেও স্বচ্ছল জীবনের আশায় গরু বিক্রি ও জমি বন্ধক রেখে ইসলাম উদ্দিনের কাছ থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ১০ শতাংশ জমি ক্রয়ের কথা কান্না ভেঁজা সুরে জানাচ্ছিলেন আব্দুর রহমান।
জমি ক্রয় ও রেজিস্ট্রেশনের সব দায়িত্ব পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য হিসেবে মেঝো ছেলে বাচ্ছু মিয়ার ওপর ন্যস্ত করা হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাচ্ছু মিয়া কৌশলে প্রতারণা করে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বাবা-মা জমির কাগজপত্র দেখতে চাইলে অভিযুক্ত বাচ্ছু মিয়া অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নানা ধরনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে বাচ্ছু মিয়ার মা বাদী হয়ে জমি উদ্ধার ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর বাচ্চু মিয়া কিছুদিন কারাভোগ করলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে সেই বিতর্কিত জমিতেই ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন।