মোঃ শাহজাহান কবির প্রধান,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
জীবন মানেই থেমে থাকা নয়, জীবন মানে প্রবল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা। আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তির বাস্তব রূপ হলেন আমাদের পঞ্চগড়ের কৃতি সন্তান নুসরাত জাহান নুহা।
মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় (২০২০ সালে) যখন জীবনের সোনালী দিনগুলো শুরু হওয়ার কথা, ঠিক তখনই তাঁর শরীরে বাসা বাঁধে মরণব্যাধি হাড়ের ক্যা-ন্সা-র (অস্টিও-সারকোমা)। কেমো-থেরা-পির অসহনীয় যন্ত্রণা, মাথার চুল ঝরে যাওয়া, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর পা হারানোর উপক্রম—সব মিলিয়ে পুরো পৃথিবীটা হঠাৎ যেন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। কিন্তু হার মানেননি নুহা। ম-র-ণব্যাধির সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের টানা লড়াইয়ে তিনি প্রতিটি দিনকে পরাজয় নয়, জয় করেছেন আশা আর দৃঢ় মনোবল দিয়ে।
চিকিৎসার কারণে স্বাভাবিক পড়াশোনায় বারবার ছেদ পড়লেও তাঁর মনের জোর একটুও কমেনি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন এবং বোর্ডে ১৭তম স্থান অধিকার করে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে অফলাইন কোচিং করতে না পেরে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি।
আর তাতেই এসেছে অভাবনীয় সাফল্য! ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট—উভয়টিতেই মেধাতালিকায় ১০০তম স্থান অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে হার মানাতে হয় মৃ-ত্যু-কেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার আগে ৭ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলো এবং হাসপাতাল থেকে যেয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৭ তম এবং জাহাঙ্গীরনগরে ৩২ তম হয়েছিলো।
এই দীর্ঘ ও কঠিন পথচলায় তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর পরিবার, বিশেষ করে বড় বোন আফরোজা মনি ও বড় ভাই Khalid Speaks—যিনারা হাসপাতালে ছায়ার মতো পাশে থেকে বোনের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন৷
পঞ্চগড়ের এই সাহসী কন্যার গল্প আজ পুরো দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। নুহার আগামী দিনগুলো আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক—আমাদের পক্ষ থেকে রইল অন্তিম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।