কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার খিরাটি সূতীরকান্দা গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ব্রক্ষপুত্র নদের শাখা সূতী জলাধার। একসময় যা ছিল এলাকার সৌন্দর্য ও জীবন জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ, আজ তা হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ আর আতঙ্কের কারণ। বছরের পর বছর ধরে এই জলাধারের উপর একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ আর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
গতকাল ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জলাধারের দুই পাড়ের মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনরকমে চলাচল করছেন বাঁশ ও কাঠের তৈরি একটি নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে। তার উপর আবার বাঁশ কাঠ পঁচে গিয়ে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি যেন এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা। সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় মহিলারা বলেন, “আমারা প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করি।ও পাড়ে মনোহরদী হাসপাতাল অসুর বিসুখ হলে যে দ্রুত চিকিৎসা নিতে যাব তারও কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া বর্ষাকালে তো মহাবিপদ সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকি—কখন কী হয়ে যায়! একটি কালভার্ট হলে অন্তত নিশ্চিন্তে থাকতে পারতাম।
খিরাটি ডঃ হাসান মডেল স্কুল ও খিরাটি আঃ কুদ্দুস একে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিদিন এই কাঠের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এখানে পাকা কালভার্ট হলে আমাদের যাতায়াতের অনেক সুবিধা হতো। স্কুলের শিক্ষিকা বলেন, এদিক দিয়ে স্কুলে গেলে আমাদের সময় খুব কম লাগে,কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে যেতে হয়,তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও কাপাসিয়া আসনের এমপি মহোদয়ের নিকট সুতির উপর দ্রুত স্থায়ী পাকা কালভার্ট নির্মাণের জোর দাবী জানাচ্ছি।
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল জানান, “এই সমস্যা নতুন না, বহু বছর ধরে আমরা কষ্ট করছি। নির্বাচনের সময় সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরে আর কেউ ফিরেও তাকায় না। আমরা কি এই দেশের নাগরিক না?”
এদিকে কৃষকদের দুর্ভোগও কম নয়। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে খুব সমস্যা হয়। যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় আমরা ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সূতী জলাধারের উপর একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ করা হলে খিরাটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাগবে যাতায়াতের জন্য সুতি জলাধারের উপর দ্রুত কালভার্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।