কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। উপজেলার ১৫টি উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মোট ৩৩৩.৩৩ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
পোনামাছ অবমুক্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুন্ডু, সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুনের বক্তব্য
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে সহায়তা হবে। জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা বাড়লে সাধারণ মানুষও এর সুফল ভোগ করবেন। এ ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, কেশবপুরের উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে পরিকল্পিতভাবে পোনামাছ অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে জলাশয় সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। পোনামাছ অবমুক্তির পর মাছের নিরাপদ বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসের বক্তব্য
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, রাজস্ব বাজেটের আওতায় কেশবপুর উপজেলার ১৫টি উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মোট ৩৩৩.৩৩ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জলাশয়ে মাছের মজুত বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পোনামাছ অবমুক্তির পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও নিয়ম মেনে মাছ আহরণের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পোনামাছ অবমুক্তির এ কার্যক্রমকে স্থানীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।